Bengali

সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে বং জুন হো'য়ের ডিস্টোপিয়ান এ্যাকশন থ্রিলার স্নোপিয়ার্সার(Snowpiercer) সিনেমাটির টিভি সংস্করণ মুক্তি পায়, যেটিতে শ্রেণিভিত্তিক সমাজের সংগ্রামকে খুব শক্তিশালীভাবে রূপকার্থে দেখানো হয়েছে। স্টিভ জোনস সেটা নিয়ে আলোচনার জন্য মূল সিনেমার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন।

I. Lenin, First Published in Pravda, 11 March, 1914

লিবারেল অধ্যাপক জনাব তুগান-বারানোভস্কি রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছেন সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। এবার তিনি সাম্যের প্রশ্নটিকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জায়গা থেকে নয়, বরং একটি বিমূর্ত জায়গা থেকে আলোচনা করে এগিয়েছেন (সম্ভবত তিনি ভাবছিলেন এমন একটি বিমূর্ত আলোচনা তার আশেপাশের ধর্মীয় এবং দার্শনিক পরিবেশের জন্য উপযুক্ত হবে, হয়ত সেকারনেই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেছেন?)

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে স্পার্টাকাস নামক একজন দাস রোমান পরাশক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তৃতীয় সার্ভাইল যুদ্ধ নামে পরিচিত এই প্রসিদ্ধ দাসবিদ্রোহের নেতা ছিলেন(অথবা সম্ভাব্য আরও কিছু নেতাদের মধ্যে একজন) স্পার্টাকাস(১০৯ খ্রিঃ পূঃ - ৭১ খ্রিঃ পূঃ)। তার নেতৃত্বে একটি ছোট বিদ্রোহী গ্ল্যাডিয়েটর দল পরিণত হয় বিশাল এক বিপ্লবী ফৌজে, যারা সংখ্যায় ছিল প্রায় এক লাখের মত। শেষ পর্যন্ত রোমান সেনাবাহিনীকে পুরো শক্তি দিয়ে লড়তে হয়েছিল উক্ত বিদ্রোহ দমনের জন্য।

আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বৈরুত এলাকার জনগণের ঘুম ভাঙবে গতকাল লেবাননের কেন্দ্রীয় রাজধানীতে ঘটে যাওয়া এক ধ্বংসাত্মক নির্মম বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপে, দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষ, উল্টে পড়া গাড়ি ও যানবাহন এবং বিস্তর এলাকাজুড়ে ভেঙে যাওয়া জানালার কাঁচের টুকরোর স্তূপের মধ্যে। 

জুনের এগারো তারিখ ব্রিস্টলে দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের মূর্তি উপড়িয়ে ফেলার ঘটনা আটলান্টিক দাস ব্যবসার সাথে ব্রিটেনের সংযোগকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যদিও দাসব্যবসা১৮০৭ সালে ব্রিটেনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল, তবে ব্রিটেনের পুঁজিবাদের উত্থান আর বিশ্বশক্তি হিসেবে ব্রিটেনের আবির্ভাবের মূল খুঁটি হিসেবে কাজ করেছে এই নির্মম ব্যবসা৷

দশকের পর দশক সংগ্রাম করে নারী মুক্তির যে অগ্রযাত্রা হয়েছিল সেটিকে আবার পশ্চাতেই ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সময়ের মহামারী ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সংস্কারের যে অগ্রযাত্রা হচ্ছিলো, সেটিকে পশ্চাতপদ করাই পুঁজিবাদের হাতে একমাত্র পথ। নিপীড়নের স্থায়ী অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজন সমাজতন্ত্র।

গত ১০ই জুলাই রাষ্ট্রপতির সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে, ৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত একটি ঐতিহাসিক বাইজেন্টাইন চার্চ আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় এরদোয়ান সরকার। তুরস্কে আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক ১৯৩৪ সালে বাইজেন্টাইনের এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করে, এই রূপান্তরকরণ তুর্কি রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবেও কাজ করেছিল তৎকালীন সময়ে। বর্তমানে পুনরায় এরদোয়ানের এই রূপান্তরকরণকেও একটি প্রতীকী আচরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়, নব্য-অটোমান সাম্রাজ্যবাদী “সুলতান” এরদোয়ান এবং প্রতিক্রিয়াশীল তুর্কি বুর্জোয়া শ্রেণীর আধিপত্যের প্রতীক।

ডেভিড হার্ভে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন ভূগোলবিদ যিনি নিজেকে মার্ক্সবাদী বলে অভিহিত করেন। ২০০৮ সালের মন্দার বদৌলতে বিশাল সংখ্যক তরুণপ্রজন্ম মার্ক্সবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে, যার ফলে তার ভিডিও লেকচার “ক্যাপিটাল” সিরিজও জনপ্রিয়তা পায় এবং লাখ লাখ ভিউ লাভ করে। এসব কারনে, সাম্প্রতিক সময়ে দেয়া তার বিবৃতি, যেখানে তিনি বিপ্লবী পদ্ধতিতে পুঁজিবাদ উৎখাত করার বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন, সেটি যৌক্তিকভাবেই একধরনের উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিগত ২৮শে সেপ্টেম্বর সাউথ এশিয়ার এক মহান বিপ্লবী ভগৎ সিং এর ১০৫ তম জন্ম দিবস পালিত হলো। আজকে আমাদের এই পজন্মের জন্য তার ব্রিটিশ তাড়ানো সাম্রাজ্যবাদ বিনাশী সশস্ত্র লড়াই সংগ্রাম এক মহান প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। ভগৎসিংকে ২৩শে মার্চ ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিটিশ রাজ হত্যা করেছিল। তবে আজ ও তিনি অত্র অঞ্চলে শ্রেনী সংগ্রামীদের কাছে একজন মহান বীর হিসাবেই বেচেঁ আছেন। তার মার্কসবাদ চর্চার পদ্ধতী এমন কি জেলখানায় থেকে ও মার্ক্সীয় ক্যাডার তৈরীর প্রচেষ্ঠা এবং নিরন্তর আন্দোলন সংগাম আমাদের জন্য পথের দিশা হয়ে আছে।

মে দিবস হলো এমন একটি দিন যা সকল ধর্ম,বর্ণ, জাতি ও গৌষ্ঠির নিপিড়িত মানুষকে একই সমতলে দাঁড় করিয়ে দেয় । ইহা দুনিয়ার সবর্ত্রই সমভাবে সমাদৃত ও গৃহিত হয়েছে ।

গনমাধ্যম ও নানামূখী তথ্য আদান প্রদনের কারণে বহুলোকের  মাঝে এই শব্দ দুটি  ‘সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম’ সর্ম্পকে এর প্রতিষ্ঠাতা মহান কার্ল মার্কস এর উদ্দেশ্যের চেয়ে  ভিন্ন ধারণার জন্ম হয়েছে । এই দ্বিধাদ্বন্ধ সহজেই অনুমেয় যে, আধুনিক যুগে ও সেই তথাকতিত সমাজতন্ত্রী দল গুলো রাশিয়ায় ষ্ট্যালিনের একনায়তান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সাথে একাকার করে দেখেন । কিন্তু বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র (ইহাই মার্কসবাদের প্রকৃতশব্দ), এই শব্দটির সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে এবং ইহা  সুনির্দিষ্ট সমাজিক কাঠামোর নির্দেশনা দান করে । মার্কসবাদের সূত্রানুসারে উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাক্তিগত মালিকানার মাধ্যমে পুঁিজবাদি পদ্বতীতে যে শোষন প্রক্রিয়া চলে তা থেকে

...